Category: Uncategorized

শোক সংবাদ

আলহাজ্ব মোহাম্মদ শরিফুল হক ১৯২২ সালে নোয়াখালী জেলায় ঘোষবাগ-এ জন্মগ্রহন করেন। ১৯৮২ সালে আনসার ও ভিডিপিতে পরিচালক পদ হতে অবসর গ্রহন করে তিনি বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতীর যুগ্ন সচিব এবং অবসরপ্রাপ্ত আনসার ও ভিডিপি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। নোয়াখালী সমিতির সেক্রেটারী জেনারেল ও আজীবন সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

তিনি গত ২৪-০১-২০১৮ ইং তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। রোজ শুক্রবার ২৬শে জানুয়ারি বাদ আসর বনানী মসজিদে নামাযে জানাযা এবং বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। শনিবার ২৭শে জানুয়ারি বাদ আসর বনানী মসজিদে উনার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা  আপনাদের দো’আ ও উপস্থিতি কামনা করছি।

Our Profound Grief

Our Profound Grief

December 1, 2017

We are deeply grieved to announce that our honourable Chairman and Mayor, Dhaka North City Corporation Mr. Annisul Huq passed away on 30th November 2017 BD time 10.23 pm at Wellington Hospital, London. Innalilliah he o innalilliahe rajiun. May Allah rest our beloved Chairman in eternal peace.He was widely respected for his commitment, principles and amiable manners. In his death the country has lost a very dynamic & dedicated person.

A good heart has stopped beating,
A good soul ascended to heaven,
But the wonderful & sweet memories of
our beloved guardian Mr. Annisul Huq
will remain forever in our hearts.

May Allah forgive and accept his soul
near the throne of whom he seek & loved.

Annisul Huq passes away

Annisul Huq passes away

Dhaka North City Corporation (DNCC) Mayor Annisul Huq died at Wellington Hospital in London at 10:23pm BdST on Thursday. He was 65.
The city corporation in a media statement on Thursday night said the mayor’s body would be flown to Dhaka on Saturday morning.
He would be buried at Banani Graveyard after a namaz-e-janaza at the Army Stadium the same day, the city corporation said. It also urged the people to pray for the peace of
the departed soul.
Earlier on Thursday, Annisul’s wife Rubana Huq told bdnews24.com that his condition worsened a day after he was put under intensive care unit (ICU) at the hospital.
On Tuesday, the mayor was moved to the ICU after he was ‘down with infection’.
He flew to the UK for family purposes on July 29.
While going through medical tests at a hospital in London in mid-August, he lost consciousness and was taken to the ICU.
Doctors had diagnosed him with cerebral vasculitis – an inflammation of the blood vessel wall involving the brain.
Annisul Huq was elected Dhaka North City Corporation mayor on a ruling Awami League ticket in 2015.
He had served as president of Bangladesh’s apex trade body FBCCI during the military-backed caretaker administration.
Prior to that, he also headed the trade body of apparel makers and exporters, BGMEA.
President Abdul Hamid and Prime Minister Sheikh Hasina on Thursday night expressed profound shock at the death of Dhaka North City Corporation (DNCC) Mayor Annisul Huq.
The President in a condolence message said, “The nation has lost an eminent businessman and a successful industrialist with the death of Annisul . . . His death is really an irreparable loss for the country.”
He prayed for eternal peace of the departed soul and conveyed deep sympathy to the bereaved family.
In a message of condolence, the Prime Minister said, “Annisul has made his place in the hearts of the common people through his public-welfare and service-oriented work.” Through the death of this people-oriented mayor, the country and the nation have lost a devoted public representative, she said.
The Prime Minister prayed for eternal peace of the departed soul and conveyed her deep sympathy to the bereaved family members.    -Agencies

Source: Daily Observer   Link to the Original Article

চলেই গেলেন মেয়র আনিসুল হক

চলেই গেলেন মেয়র আনিসুল হক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের দা ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি মারা যান। হাসপাতালে তিনি কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (ভেন্টিলেশন) যন্ত্র দেওয়া অবস্থায় ছিলেন। রাতে তাঁর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র খুলে নিয়ে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক সূত্র জানায়, শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তাঁকে ঢাকায় আনার কথা রয়েছে। ওই দিনই আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ডিএনসিসি গতকাল রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় ৩১ আগস্ট আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। পরে তাঁকে ওয়েলিংটন হাসপাতালে আনা হয়।

গত মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। এরপর বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে মেয়রকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

আনিসুল হক ১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশবের একটি বড় সময় কাটে ফেনীর সোনাগাজীর নানাবাড়িতে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্ত্রী রুবানা হক, দুই কন্যা ও এক ছেলে রেখে গেছেন। শরিফুল হক ও রওশন আরা বেগম দম্পতির বড় সন্তান আনিসুল হক। তাঁর ছোট ভাই আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক বর্তমানে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্ণাঢ্য জীবন ছিল আনিসুল হকের। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের মেয়র নির্বাচনে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও তিনি বিপুল জনপ্রিয় ছিলেন। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বড় ছেলে নাভিদুল হক দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এক মেয়ে ওয়ামিক উমায়রা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওতে কর্মরত এবং আরেক মেয়ে তানিশা ফারিয়াম্যান হক মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। মেয়র হওয়ার আগে ব্যবসায়ী হিসেবে তিনিই মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আনিসুল হক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের তৈরি পোশাক খাত, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম খাতের সঙ্গে জড়িত। পোশাকমালিকদের সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সংগঠন সার্ক চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত।

আশির দশকে আনিসুল হক বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর উপস্থাপনায় বিটিভির ঈদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দমেলা, রাজনীতিবিষয়ক অনুষ্ঠান মুখোমুখিসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়ে আলোচিত হয়েছিলেন।

আনিসুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ শোক প্রকাশ করেছেন।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে ঢাকার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। এর অনেক সুফল এখনো পাচ্ছে ঢাকাবাসী। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত করতে গিয়ে আনিসুল হক পরিবহনশ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন। পরে ওই সড়ক দখলমুক্ত করে তা সড়ক হিসেবে চালু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ফলে দীর্ঘ বছর ধরে দখল হয়ে থাকা এই সড়ক এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। এ ছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় বিশেষ রঙের রিকশা এবং ‘ঢাকা চাকা’ নামে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সেবা চালু করেন আনিসুল হক। আবার ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে যাওয়ার পথটি ছিল যন্ত্রণাময়। এলোপাতাড়িভাবে বাস রাখার জন্য এখানেও যানজট লেগেই থাকত। আনিসুল হকের উদ্যোগে এই সড়কটিও এখন দখলমুক্ত। এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়কে যানজট কমাতে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কে ইউলুপ করার উদ্যোগ নেন আনিসুল হক। এরই মধ্যে মহাখালী থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। মাত্র দুই বছরের জন্য মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এ অল্প সময়ের কাজের জন্যও একজন ব্যতিক্রমী মেয়র হিসেবে ঢাকাবাসী আনিসুল হককে মনে রাখবে বহুদিন।

Source: Prothom Alo Link to the Original Article

Tributes pour in for Annisul Huq

Tributes pour in for Annisul Huq

Ittefaq Report

Tributes as well as condolence messages still pour in for Dhaka North City Corporation Mayor Annisul Huq, who breathed his last at a London hospital around 4.23 pm (London time) Thursday.

The mayor, 65, died in the Intensive Care Unit (ICU) of Wellington Hospital around 10:23pm Bangladesh time.According to his family members, the doctors of the London hospital removed the ventilation apparatus from his mouth around 4:23pm in London time, declaring him dead.President Abdul Hamid and Prime Minister Sheikh Hasina on Thursday night expressed shock at the death of Dhaka North City Corporation’s (DNCC) first Mayor Annisul Huq.In separate messages, the President and the Prime Minister recalled Annisul Huq’s contributions to the development of Dhaka North City Corporation area.People from every sphere of life are expressing shock at the death of once famous TV personality and business icon Annisul Huq. Dr Shirin Sharmin Chaudhury, the speaker of National Parliament expressed deep shock in a message at the death of Annisul Huq. She recalled Huq’s contributions, saying he was a famous and successful businessman, industrialist and contemporary person. The speaker stated “He had much attention towards development of Dhaka North City Corporation and people living in the area.”Deputy leader of the House Syed Sazeda Chowdhury, leader of the opposition Rawshan Ershad, LGRD and Co-operatives Minister Engineer Khandker Mosharraf Hossain, Education Minister Nurul Islam Nahid, Law Minister Anisul Huq, Land Minister Shamsur Rahman Sherif, state minister for land Saifuzzaman Chowdhury, all expressed deep shock at the death of Annisul Huq in seperate messages. They prayed for eternal peace of the departed soul and conveyed profound sympathy to the bereaved family. Family sources of deceased Mayor Annisul Huq said a Biman Bangladesh Airlines flight will carry his body back home on Saturday.The flight is scheduled to land in Dhaka’s Hazrat Shahjalal International Airport at 11:20am. From the airport, his body will be taken to his home. He will be buried at the Banani graveyard following another namaz-e-janaza at the Army Stadium after Asr prayers.  His first namaz-e-janaza would be held at London’s Regent Park Mosque after the Jumma prayers on Friday.

 

Source: clickittefaq.com Link to the Original Article

স্বপ্ন সারথীর বিদায়

স্বপ্ন সারথীর বিদায়

আনিসুল হক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের নিশ্চিতে ঘুমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়া আনিসুল হক এখন চিরনিদ্রায় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা উত্তরের নগরপিতা সপরিবারে যুক্তরাজ্যে গিয়ে গতকাল সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে।

সফল উদ্যোক্তা থেকে ক্ষণজন্মা এই মেয়র মাত্র দেড় বছরেই প্রতিশ্রুতির অনেকটাই পূরণ করেছেন, জায়গা করে নিয়েছেন নগরবাসীর অন্তরে। মেয়র হওয়ার আগে বলিষ্ঠ কণ্ঠের টিভি উপস্থাপক থেকে তিলে তিলে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে, নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের নিশ্চিতে ঘুমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হওয়া আনিসুল হক এখন চিরনিদ্রায় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঢাকা উত্তরের নগরপিতা সপরিবারে যুক্তরাজ্যে গিয়ে গতকাল সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে।

সফল উদ্যোক্তা থেকে ক্ষণজন্মা এই মেয়র মাত্র দেড় বছরেই প্রতিশ্রুতির অনেকটাই পূরণ করেছেন, জায়গা করে নিয়েছেন নগরবাসীর অন্তরে। মেয়র হওয়ার আগে বলিষ্ঠ কণ্ঠের টিভি উপস্থাপক থেকে তিলে তিলে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে, নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে।

লন্ডনের সময় ৪টা ২৩ মিনিটে মৃত্যুবরণ করা আনিসুল হকের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র (ভেনটিলেশন যন্ত্র) বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে খুলে নেন চিকিৎসকরা। এরপর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ১৯৫২ সালে জন্ম নেওয়া আনিসুল হকের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেলেন।

আনিসুল হকের পারিবারিক ওই সূত্র জানায়, হাসপাতালে চিকিৎসারত আনিসুল হকের জীবনের শেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী, পুত্র ও কন্যারা। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে আনিসুল হকের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছবে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ তাঁর বাসায় নেওয়া হবে।

ওই দিন বাদ আসর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে মরহুমার লাশ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। আজ শুক্রবার লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। সেখানে থাকাবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন। তখন তাঁকে লন্ডনের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। অবস্থার উন্নতি ঘটার পর গত ৩১ অক্টোবর তাঁকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তরের খবর জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল ডিএনসিসি। আনিসুল হককে নিয়ে নানা গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে গত ২৩ নভেম্বর ডিএনসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে, তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার তাঁকে আবারও আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক সাংবাদিকদের জানান, সংক্রমণের কারণে আনিসুল হককে আবার আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আনিসুল হকের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর, নোয়াখালীতে। শৈশবের বেশ কিছু সময় কেটেছে ফেনীর সোনাপুর গ্রামে, নানাবাড়িতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা আনিসুল হক খ্যাতি অর্জন করেন টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে বিটিভিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ১৯৮৬ সাল থেকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্তাল দিনগুলোতে। এ ছাড়া, তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্টস পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে।

সরাসরি কোোনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা আনিসুল হক ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি থাকাকালে ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা নেন। সেনাসমর্থিত ওই সরকারের শুরুতেই রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হতে থাকে। তখন বাজারে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তখন ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় ‘বেটার বিজনেস ফোরাম’ গঠনে মূল ভূমিকা পালন করেন আনিসুল হক। তখন অর্থপাচার রোধে ৫০০ টাকার নোট বাতিল করার প্রস্তাবও করেছিলেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরস্পরের কাছাকাছি আনতে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করেন আনিসুল হক।

২০১৫ সালের মেয়র নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। মেয়র হয়ে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার এক ফুঁয়ে আমি নেতা। মন্ত্রী মর্যাদার মেয়র হয়েও নেতাসুলভ ভাব ছিল না আনিসুলের মধ্যে। আওয়ামী লীগের ব্যানারে রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সফল ব্যবসায়ী আনিসুল হকের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দল-মতের ঊর্ধ্বে রেখেছেন নিজেকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে রেখে বিরোধীদের সমালোচনা থেকে বিরত থেকেছেন, দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতিতে নগরের উন্নয়নে নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সফরে যাওয়ার অল্প কয়েক দিন আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেছিলেন, মেয়র হিসেবে তিনি এমন কিছু করতে চান, যাতে তাঁর মৃত্যুর পরও নগরবাসী তাঁকে মনে রাখে। ওই কথা বলার পর নগরবাসীর উন্নয়নে বিশেষ কিছু করার সময় পাননি আনিসুল হক। তবে উত্তরের বাসিন্দারা মনে করছে, মাত্র দেড় বছরে মেয়র হিসেবে আনিসুল হক যে সফলতা দেখিয়েছেন, তাতে নগরবাসীর মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

২০১৫ সালের ৬ মে ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় এক কোটি মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি। সেই থেকে নিরন্তর নগরবাসীর স্বপ্ন পূরণে ছুটেছেন তিনি। মেয়াদের অর্ধেক পেরোনোর আগেই সফলতা দেখিয়েছেন, প্রশংসাও কুড়িয়েছেন অনেক। মেয়র হওয়ার আগেই ‘আমরা ঢাকা’ নামে স্লোগান তুলে আনিসুল হক নগরবাসীকে উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। কোথাও কোনো সেবার প্রয়োজন হলে ছবি তুলে মেয়রকে জানানো যেত। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রতিকার মিলত। ঢাকার রাস্তায় অভিজাত যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, রাস্তা থেকে ময়লা অপসারণ, চলাচলের উপযোগী ফুটপাত নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারসহ নানা কর্মকাণ্ডে মাত্র দেড় বছরেই বড় সফলতা অর্জন করেছেন আনিসুল হক।

যানজট কমাতে কঠোর ভূমিকা পালন করেন, মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১২, তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল, কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন রাস্তা, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড, গাবতলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করেছেন। নগরের যানজট কমাতে ইউলুপ নির্মাণের কাজও শুরু করেন। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম এক বছরের মধ্যেই ১১৮ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছেন, ৪৫১টি রাস্তা উন্নয়নের কাজ করেছেন, ১৪৮ কিলোমিটার ড্রেনে সংস্কার এনেছেন। ৬৮ কিলোমিটার ফুটপাতের উন্নয়নও করেছেন প্রথম এক বছরেই।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু ডিএনসিসিতে এ ধরনের দুর্নীতি রোধ করতে পেরেছিলেন আনিসুল হক। মেয়াদের এক বছর পূর্তিতে কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকেই স্বচ্ছতার ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি দিয়েছি। আমি সবাইকে বলেছি, আমরা হয়তো শতভাগ স্বচ্ছ হতে পারব না, তবে যতটুকু সম্ভব তা নিশ্চিত করে যাচ্ছি। প্রথম থেকেই ই-টেন্ডারিং করা শুরু করেছি। এ নিয়ে অনেকেই বাধা-বিপত্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে। আমি ইতিমধ্যে দাপ্তরিকভাবে ফাইল তিন দিনের বেশি না রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া, মাসে ২০ লাখ টাকার জ্বালানি ব্যয় কমিয়ে এনেছি। ’

বর্তমান সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকের ভাই আনিসুল হক নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিতেন অকপটে। ২০১০ সালে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির মেয়াদ শেষে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সভাপতি নির্বাচনের আগে এফবিসিসিআইতে তিনি শক্তিশালী গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু দুবছর মেয়াদ শেষ হলেও আমি তা করতে পারিনি। এটি আমার ব্যর্থতা। ঢাকার জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে একাত্মতা স্বীকার করে আনিসুল হক বলেছিলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষে জলাবদ্ধতা দূর করা দুরূহ। তবে ঢাকা উত্তরকে ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা, যানজট কমানো, আবর্জনামুক্ত ঢাকা গড়া, পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এমনকি প্রভাবশালী দেশগুলোর দূতাবাসের দখল থেকে গুলশানের ফুটপাত নগরবাসীর হাঁটার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস টব বসানোসহ নানাভাবে ফুটপাত দখল করে নগরবাসীকে সেখান দিয়ে হাঁটতে বাধা দিয়ে আসছিল। মেয়র আনিসুল হক বলিষ্ঠভাবে ওই সব ফুটপাতের দখল নিয়ে নগরবাসীর জন্য তা উন্মুক্ত করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমার দেশের ফুটপাত দিয়ে আমার নাগরিকরা হাঁটতে পারবে না, এটা হতে পারে না। ’

মেয়রের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বিরোধীদলীয় নেতার শোক : মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও শোক প্রকাশ করেন। তাঁরা আনিসুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

Source: Kalerkantho Link to the Original Article

Annisul Huq Analyzes Bangladesh Garment Industry Situation

Annisul Huq, a leading readymade garment entrepreneur, is the former president of Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association.

In an interview with Voice of America Bangla Service, Mr. Huq gives his reaction to the government’s proposal to form a Truth Commission for business people.

He also talks about the causes behind a remarkable fall in the garments export from Bangladesh.

Annisul Huq analyzes the present situation in the garment industry and talks about the current problems and the reasons behind it.

Link to the Original Article